
দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সরকারের একটি অংশের সংশ্লিষ্টতা ও ভেতরের যোগসাজশ ছাড়া এমন ঘটনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের মুখপাত্র এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা না থাকলে বারবার এ ধরনের হামলা ঘটতে পারে না। এর আগেও মাজারে হামলা ও গণমাধ্যমকর্মীদের হুমকির ঘটনা ঘটেছে, যা থেকে স্পষ্ট—এগুলো বিচ্ছিন্ন নয়, বরং পরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, কারা হামলায় জড়িত, তা চিহ্নিত করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু যদি সরকারের ভেতর থেকেই যোগসাজশ থাকে, তাহলে হামলাকারীদের শনাক্ত ও দমন কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি সরকারের ভেতরে যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের ভেতরে ফ্যাসিস্ট শাসনামলের লোকজন এখনো সক্রিয় রয়েছে। তারা গণঅভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ ব্যর্থ করে দিতে চাইছে। এ ধরনের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সরকারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রকাশ্যে শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া চরম ব্যর্থতার পরিচয়। নৈতিকভাবে তিনি ওই দায়িত্বে থাকার যোগ্য নন বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ।
হামলার ঘটনায় সরকারের দায়সারা অবস্থানের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কেবল বিবৃতি দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা চলছে। সামনে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে অরাজকতা ও সহিংসতা উসকে দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ও উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
হাসনাত কাইয়ুম বলেন, পতিত স্বৈরাচারের সঙ্গে যুক্ত একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, হামলার আগে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা সরকারের ব্যর্থতা। গণমাধ্যমের ওপর হামলা সরাসরি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।