
ইরানকে ‘আসন্ন হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে চলমান সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth-এর সাম্প্রতিক মন্তব্য। তিনি বলেছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য সরাসরি কোনো হুমকি নয়।
এই তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Middle East Eye। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক মাস ধরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের পর এই বক্তব্য সামনে এলো।
এতে প্রশ্ন উঠেছে, যদি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সরাসরি হুমকি না হয়ে থাকে, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর যৌক্তিকতা কী ছিল। কারণ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হোয়াইট হাউস বারবার ইরানকে ‘আসন্ন হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে আসছে।
এই প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক সম্পদ ও মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ঝুঁকি নিয়েছে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাই ছিল এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম নয়, তবে মিত্র দেশগুলো এবং অন্যান্য অঞ্চলের জন্য তা হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এ প্রসঙ্গে তিনি মিত্র দেশগুলোর প্রতি অসন্তোষও প্রকাশ করেন। হেগসেথের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র যখন বাড়তি সহায়তা চায়, তখন অনেক মিত্র দেশ থেকে পাওয়া যায় দ্বিধা, প্রশ্ন এবং বাধা।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইতোমধ্যে জোট রাজনীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, প্রয়োজনের সময় মিত্ররা পাশে না দাঁড়ালে শক্তিশালী জোট গঠন সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান ও ভবিষ্যৎ জোট রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।