
শাকিব খানের সিনেমা ‘প্রিন্স : ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ দিয়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটেছে কলকাতার অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর। ঈদ উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন তিনি। সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া সরাসরি উপভোগ করতে সম্প্রতি ঢাকায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। আর প্রথম সফরেই দেশের মানুষ, আতিথেয়তা এবং খাবারের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু জানান, বাংলাদেশের জনপ্রিয় খাবার কাচ্চি বিরিয়ানি তার কাছে এখন বিশেষ আকর্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি রসিকতার সুরে বলেন, কাচ্চি বিরিয়ানি না খেয়ে তিনি কোনোভাবেই বাংলাদেশ ছাড়বেন না। এমনকি যদি তাকে এই খাবার না খাইয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে তার আত্মাও শান্তি পাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মাঝে হাসির রোল পড়ে যায় এবং তার খাবারপ্রেমী মনোভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
জ্যোতির্ময়ী আরও জানান, অনেক দিন ধরেই তিনি বাংলাদেশ সফরের অপেক্ষায় ছিলেন। বিশেষ করে এখানকার দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং তাদের প্রতিক্রিয়া জানার ইচ্ছা ছিল তার। তিনি বলেন, ভারতে বসবাসরত অনেকেই তাকে বাংলাদেশের আতিথেয়তা, মানুষের আন্তরিকতা এবং বিশেষ করে কাচ্চি বিরিয়ানির কথা বারবার বলেছেন। এসব শুনেই তার মধ্যে এই দেশ ও খাবার নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়।
বাংলাদেশে এসে সেই অভিজ্ঞতা যে সত্যিই উপভোগ করছেন, সেটিও তার কথায় পরিষ্কার। তিনি জানান, এখানকার মানুষের ভালোবাসা তাকে মুগ্ধ করেছে। একই সঙ্গে দেশের সংস্কৃতি ও পরিবেশ তার কাছে বেশ উপভোগ্য মনে হয়েছে। সুযোগ পেলে তিনি আরও বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখতে চান বলেও উল্লেখ করেন।
খাবারের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইলিশ মাছের কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, ইলিশ মাছ তার পছন্দের হলেও কাঁটার কারণে ঠিকভাবে খেতে পারেন না। তবে কেউ যদি কাঁটা বেছে দেন, তাহলে তিনি আনন্দের সঙ্গে এই মাছ উপভোগ করতে পারবেন। এতে বোঝা যায়, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রতিও তার আগ্রহ রয়েছে, যদিও কিছুটা ভীতি কাজ করে।
‘প্রিন্স : ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আবু হায়াত মাহমুদ। এই ছবিতে জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর পাশাপাশি অভিনয় করেছেন শাকিব খান ও তাসনিয়া ফারিণসহ আরও অনেকে। সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং নতুন এই জুটির অভিনয়ও আলোচনায় এসেছে।
সব মিলিয়ে, প্রথমবার বাংলাদেশে এসে জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর অভিজ্ঞতা বেশ আনন্দদায়ক বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। বিশেষ করে কাচ্চি বিরিয়ানির প্রতি তার আগ্রহ এবং দেশের আতিথেয়তা নিয়ে তার প্রশংসা প্রমাণ করে, এই সফর তার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সামনে যদি আবার বাংলাদেশে আসার সুযোগ হয়, তাহলে হয়তো তিনি আরও বেশি সময় নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার পাশাপাশি প্রিয় খাবারগুলো উপভোগ করবেন।