
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Khalilur Rahman। আগামী ৭ এপ্রিল তিনি ভারত সফরে যাচ্ছেন, যেখানে জ্বালানি আমদানি ও পানিবণ্টনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে।
এই সফরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, কারণ প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর এটি কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Hindustan Times জানায়, সফরের সময় গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি এবং ভারত থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানির বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সফরের দ্বিতীয় দিনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী S. Jaishankar, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা Ajit Doval এবং বাণিজ্যমন্ত্রী Piyush Goyal-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন ড. খলিলুর রহমান।
এছাড়া ভারতের জ্বালানিমন্ত্রী Hardeep Singh Puri-র সঙ্গেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
এই সফরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২০২৬-২৭ অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থীতা। এই পদে বাংলাদেশের সমর্থন পেতে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হতে পারে।
পানিবণ্টন ইস্যুও এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ৩০ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মেয়াদ প্রায় শেষের পথে। নতুন করে চুক্তি নবায়ন বা পুনর্বিবেচনার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তির ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন কোনো চুক্তি হলে রাজ্য সরকারের সম্মতি প্রয়োজন হবে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সফর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।