
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ইরানে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এমন বড় মাত্রার হামলা আগে খুব কমই দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৭০১টি হামলা চালিয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)। এই তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাতেও উঠে এসেছে।
এই হামলার পরিমাণ শুধু সংখ্যার দিক থেকেই নয়, বরং সময়ের স্বল্পতার দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক হামলার ঘটনা এই সংঘাতের তীব্রতা ও বিস্তারকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। সংস্থাটির মতে, এক মাস আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একদিনে এত বড় পরিসরে হামলার নজির খুব কমই রয়েছে।
এই হামলাগুলোর বড় একটি অংশ সংঘটিত হয়েছে রাজধানী তেহরানে। মোট হামলার প্রায় ৭৪ শতাংশই তেহরানকে কেন্দ্র করে হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক ও অস্থিরতা আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংঘাতের মানবিক দিকটিও ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। এইচআরএএনএ’র হিসাব অনুযায়ী, চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৫১ জন ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ২৩৬ জন শিশু রয়েছে, যা পরিস্থিতির গভীরতা এবং মানবিক সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরে।
এদিকে এই উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আরেকটি ফ্রন্ট খুলে দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অভিযোগ করেছে যে, ইরান এই অঞ্চলে আরও বড় সংঘাত তৈরি করতে চাইছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে যদি হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। এই প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট হিসেবে পরিচিত। এখানে হামলা হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরানে একদিনে ৭০১টি হামলার এই রেকর্ড কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির একটি প্রতিফলন। সংঘাতের বিস্তার, বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা এবং নতুন নতুন ফ্রন্টের উদ্ভব—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।