
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের অবস্থান নয় দিনেও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তিনি বর্তমানে দেশে আছেন নাকি বিদেশে পালিয়ে গেছেন—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রোববার সন্ধ্যার পর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ, র্যাব ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফয়সালকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ডেভিল হান্ট অভিযানের দ্বিতীয় ধাপের অগ্রগতি জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে হাদি হত্যাকাণ্ড।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ফয়সাল দেশে না দেশের বাইরে—এটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিভিন্ন দিক থেকে অনুসন্ধান চলছে এবং সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ফয়সালের বাবা-মা, স্ত্রীসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব, ডিবি ও বিজিবির সমন্বিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে, যা হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ফরেনসিক পরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে, তবে তদন্ত এখনো চলমান।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হামলার পর ফয়সাল ও তার সহযোগী আগারগাঁও এলাকায় যান এবং ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি লুকানোর পরিকল্পনা করেন। অস্ত্রভর্তি ব্যাগটি একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের হাত ঘুরে বিভিন্ন স্থানে রাখা হয়। পরে ঘটনার বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রকাশ পাওয়ার পর আতঙ্কিত হয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ একটি বিলে ফেলে দেওয়া হয়, সেখান থেকে র্যাব সেগুলো উদ্ধার করে।
বিজিবির ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একজন পরিচিত মানবপাচারকারীকে ধরতে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় রিকশাযোগে যাওয়ার সময় খুব কাছ থেকে গুলি করে গুরুতর আহত করা হয় শরীফ ওসমান হাদিকে। চিকিৎসার জন্য প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং অন্যদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।