
যশোরের ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের বুরুলি এলাকায় বুরুলি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এই খাল পুনঃখনন প্রকল্পে প্রায় এক কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় হবে। আগামী জুন মাসের মধ্যে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের খনন কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বুরুলি খালটি পুনঃখনন করা হলে ভবদহ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অনেকটাই সহজ হবে। বিশেষ করে কেশবপুর উপজেলার বুরুলি, পাথরা, পাঁজিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও কৃষ্ণনগর বিলের পানি সহজেই আপারভদ্রা নদীতে প্রবাহিত হতে পারবে।
দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় ওই অঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে কৃষিজমিতে পানি জমে থেকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছিল, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক কৃষক নিয়মিতভাবে ফসল উৎপাদন করতে পারছিলেন না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসান। কেশবপুর উপজেলার বুরুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে খাল খনন কর্মসূচি অতীতে কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সরকার আবারও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় এই কর্মসূচি চালু করেছে। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পথ সুগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবদহ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নদ-নদী পুনঃখনন কার্যক্রম। বর্তমানে এই অঞ্চলে ৮১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদ-নদী পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ২১টি অভ্যন্তরীণ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমও চলছে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ভবদহ এলাকায় পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে ২১ ভেন্ট স্লুইস গেটের ১৭টি কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল মামুনুর রশিদ, যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ হোসেন জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল খনন কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে এই খাল খনন প্রকল্পকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে।