
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় সাবেক স্বামীর নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ তুলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন মারিয়া আক্তার নামে এক নারী। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুমকি দেন, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী মারিয়া আক্তার কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামের বাসিন্দা। সংবাদ সম্মেলনে তার শিশু সন্তান, মা-বাবা ও স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, ২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি একই উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভুবনেরচালা গ্রামের মো. আতিক তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় তাকে বিয়ে দিতে বাধ্য করা হয়।
তখন মারিয়ার বয়স ১৮ বছরের নিচে থাকায় বিয়েটি আইনগতভাবে নিবন্ধন করা সম্ভব হয়নি। বিয়ের এক বছর পর তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। তবে কিছুদিন পর থেকেই স্বামীর আচরণে পরিবর্তন আসে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মারিয়ার দাবি, তার সাবেক স্বামী নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং অন্য নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি বিবাহবিচ্ছেদ করে সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
এরপর থেকেই সাবেক স্বামী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন মারিয়া। তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে।
জীবিকা নির্বাহের জন্য কাপাসিয়া বাজারে একটি বিউটি পার্লার চালু করলেও হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে তা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মারিয়া আক্তার বলেন, “আমি এখন চরমভাবে অসহায়। আমার সন্তানকে নিয়ে কোথায় যাব বুঝতে পারছি না। যদি এর কোনো সমাধান না হয়, তাহলে আত্মহত্যা ছাড়া আমার আর কোনো পথ থাকবে না।”
তিনি প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আতিকের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।