
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত এক সপ্তাহে কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, তা জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে না পারলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরীকে পদত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।
শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে শহীদ ওসমান হাদি বিন হাদির নামাজে জানাজার পূর্বমুহূর্তে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, হাদির হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত খুনিদের গ্রেপ্তারের কোনো তথ্য সরকার জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং তারা কোথায় রয়েছে।
আব্দুল্লাহ আল জাবের তার বক্তব্যে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়, বরং এর পেছনে একটি সংগঠিত চক্র রয়েছে বলে তারা মনে করেন। সে কারণে পুরো খুনি গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। ইনকিলাব মঞ্চ ও শহীদ হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানানো হয়।
তিনি আরও বলেন, এই সমাবেশ কেবল শোক প্রকাশের জন্য নয়, বরং ন্যায়বিচারের দাবি জানাতেই তাদের অবস্থান। একই সঙ্গে তিনি উপস্থিত জনতার প্রতি আহ্বান জানান, কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দিয়ে শুধুমাত্র ইনকিলাব মঞ্চের নির্দেশনার মধ্যেই কর্মসূচিতে অংশ নিতে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় রিকশায় থাকা অবস্থায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের পর তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
হাদি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।