প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 23, 2026 ইং
হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে আশাবাদী ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ Strait of Hormuz নিয়ে নতুন আশার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি বলেছেন, খুব শিগগিরই এই প্রণালি খুলে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে এটি যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, Iran-এর সঙ্গে চলমান আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ আবার চালু হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও একটি যৌথ ব্যবস্থাপনার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “আমি এবং আয়াতুল্লাহ মিলে এটি নিয়ন্ত্রণ করব।” তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
এর আগে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের অভিযোগ তুলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে। কারণ এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।
এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং দাম ওঠানামা করতে থাকে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা যায়।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, চলমান সংঘাতের শুরুতেই দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ নিহত হয়েছে। এর ফলে ইরানে এক ধরনের পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এই ধরনের মন্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কারণ একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।
এ ছাড়া ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এমন কিছু ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যারা তার মতে ‘যুক্তিবাদী ও দৃঢ়’। ভবিষ্যতে এই ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
বিশ্ববাজার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। এটি শুধু একটি জলপথ নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। তাই এই প্রণালি খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা যদি সফল হয়, তাহলে শুধু হরমুজ প্রণালিই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের উত্তেজনা কমে আসতে পারে। এতে করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্যা ডেইলি কসমিক পোষ্ট । বাংলা