
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি মনে করছে, এ ঘটনায় প্রতিশোধমূলক আচরণ ও পাল্টা সহিংসতা সমাজে বিভাজন আরও বাড়াতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স এক বিবৃতিতে বলেন, গত সপ্তাহে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সহিংসতা কোনো সমাধান নয়; বরং এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং পারস্পরিক আস্থা দুর্বল হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জাতিসংঘ জানায়, কিছু স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার খবরও পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ জানিয়েছে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত, পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা যায় এবং জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ মনে করছে, এমন একটি পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি যেখানে নাগরিকরা নিরাপদভাবে জনজীবনে অংশ নিতে পারেন এবং ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারেন। সংস্থাটি পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল না করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে।