
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে আনা হয়েছে এবং আজ জানাজা শেষে তাঁকে রাজধানীতে সমাহিত করা হবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার বেলা দুইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শরিফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই স্থান নির্ধারণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, মরদেহ বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে কফিন নামানোর পর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সামাজিক ও ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জানাজা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের কোনো ধরনের ব্যাগ বা ভারী বস্তু বহন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে, ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায়। সে সময় শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।
মরহুমের মৃত্যুর পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শোকসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শাহবাগ এলাকায় আয়োজিত এক সমাবেশে বিভিন্ন সংগঠন বিচার দাবি এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেয়। এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বক্তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১১টার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আজ রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেন। ভাষণে তিনি জানান, আজ দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। একই সঙ্গে মরহুমের স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।