
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী জান্নাতারা রুমীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর সরকারি কবরস্থানের সামনে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। শেষ বিদায়ে উপস্থিত স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ছিল গভীর শোকের আবহ।
জান্নাতারা রুমী এনসিপির ধানমন্ডি থানা সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেনের মেয়ে। ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি হাজারীবাগ থানার জিগাতলা এলাকার একটি ছাত্রী হোস্টেলে একাই বসবাস করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রুমী ছিলেন তিন ভাইবোনের একজন। শৈশবেই মাকে হারানোর পর তিনি মূলত ভাই ও চাচাদের সঙ্গেই বড় হন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। শুরুতে জেলা পর্যায়ে কাজ করলেও পরে ঢাকায় এসে দলীয় কার্যক্রমে যুক্ত হন এবং ধানমন্ডি এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। সাম্প্রতিক সময়ে একটি ঘটনায় আলোচনায় আসার পর তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি পান।
রুমীর চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান জানান, পরিবারের সম্মতিতেই রাতে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পরিবার ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবেই বিবেচনা করছে এবং বিষয়টি নিয়ে আর বাড়তি কোনো মন্তব্য করতে চায় না।
হাজারীবাগ থানার উপপরিদর্শক কামরুজ্জামান জানান, রুমীর জীবনে দুটি বিয়ে হয়েছিল। প্রথম স্বামীর ঘরে তার একটি মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে একটি ছেলে রয়েছে। সন্তানরা নওগাঁয় থাকলেও তিনি ঢাকায় একাই হোস্টেলে থাকতেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হাজারীবাগের জিগাতলা কাঁচাবাজার সংলগ্ন একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে রুমীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে রাতের দিকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে তা নওগাঁয় নেওয়া হয় এবং দাফন সম্পন্ন করা হয়।