প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 25, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 18, 2025 ইং
নেপালের রাজপরিবার থেকে বলিউড—মনীষা কৈরালার অনন্য যাত্রা

নব্বইয়ের দশকের ভারতীয় উপমহাদেশের সিনেমায় যে কটি নাম সময়কে ছাপিয়ে আজও স্মরণীয়, মনীষা কৈরালা তাদের অন্যতম। সৌন্দর্য, অভিনয় দক্ষতা ও ব্যক্তিত্বের সম্মিলনে তিনি ছিলেন সেই সময়ের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রীদের শীর্ষ সারিতে। তবে তাঁর জীবনকাহিনি শুধু সাফল্যের নয়—এটি ব্যতিক্রমী সাহস, আত্মসংগ্রাম ও আত্মবিশ্বাসেরও এক অনন্য দলিল।
মনীষা কৈরালার জন্ম নেপালের একটি প্রভাবশালী ও ঐতিহ্যবাহী রাজপরিবারে। তাঁর পরিবার রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিল। রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে আরাম-আয়েশে জীবন কাটানোর সুযোগ থাকলেও মনীষা বেছে নেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ। অভিনয়ের প্রতি গভীর আকর্ষণ তাঁকে নিয়ে আসে রুপালি পর্দার আলোয়—যা দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে একেবারেই বিরল ঘটনা।
বলিউডে আত্মপ্রকাশের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নিজেকে প্রমাণ করেন শক্তিশালী অভিনেত্রী হিসেবে। প্রেম, ট্র্যাজেডি কিংবা জটিল মানসিক চরিত্র—সব ধরনের ভূমিকায় সাবলীল উপস্থিতি তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়। নব্বইয়ের দশকে একের পর এক ব্যবসাসফল ও সমালোচকপ্রশংসিত ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন সেই সময়ের প্রজন্মের আইকন।
কিন্তু উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের মাঝেই তাঁর জীবনে নেমে আসে অপ্রত্যাশিত অন্ধকার। হঠাৎ করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার খবর তাঁর ভক্তদের পাশাপাশি পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গনকে নাড়িয়ে দেয়। এই মরণব্যাধি শুধু শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও এক ভয়াবহ পরীক্ষার মুখে দাঁড় করায় তাঁকে। দীর্ঘ চিকিৎসা, একাকিত্ব আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাঁকে।
তবে মনীষা কৈরালা হার মানেননি। ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ে তিনি দেখিয়েছেন অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা। নিজের অভিজ্ঞতা তিনি খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন, যাতে অন্য রোগীরাও সাহস পান। চিকিৎসা শেষে নতুনভাবে জীবনের দিকে ফিরে তাকানো, আত্মশুদ্ধি ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেন।
আজ মনীষা কৈরালা শুধু একজন অভিনেত্রী নন, তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম। রাজপরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে নিজের পরিচয় গড়া, আবার মৃত্যুভয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবনকে নতুনভাবে জয় করার এই গল্প সত্যিই বিরল। তাঁর জীবন প্রমাণ করে—খ্যাতি ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু সাহস ও মানবিক শক্তিই মানুষকে সত্যিকারের কিংবদন্তিতে পরিণত করে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্যা ডেইলি কসমিক পোষ্ট । বাংলা