
জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির ওপর সংঘটিত হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তদন্তে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, হামলার পর অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদের অবস্থান নিয়ে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছে। মোবাইল ফোনে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিভ্রান্তির চেষ্টা করা হলেও একটি নির্দিষ্ট স্থানে তার অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র বিভিন্ন পর্যায়ে হাতবদল হয়ে একটি জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখান থেকে একাধিক অস্ত্র, গুলি ও সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার করে। এসব আলামত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পারিবারিক সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনও রয়েছেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও সাক্ষ্য থেকে ঘটনার পটভূমি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি, হামলার পেছনে অর্থের জোগান কোথা থেকে এসেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ও লেনদেন পর্যালোচনার কাজ চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক তথ্য সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করছে।
হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, ভুয়া নম্বর প্লেট ও অন্যান্য সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। মালিকানা ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়ায় সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাপ্ত সব তথ্য যাচাই করে প্রকৃত দায় নির্ধারণের দিকেই এগোচ্ছে তদন্ত।
উল্লেখ্য, ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় সংঘটিত এই হামলার পর আহত ওসমান হাদিকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানো হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।