
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে একটি সমন্বিত নির্বাচনি ইশতেহার প্রস্তুত করছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো জানায়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এই ইশতেহারের কাঠামো সাজানো হচ্ছে।
ইশতেহারে সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় মাসিক আর্থিক সহায়তা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণে ন্যায্যমূল্য, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বিমা, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর তথ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সুবিধার আওতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে যুক্তরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহিতা ও সেবার মান বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে দেশব্যাপী নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মহানগর ও জেলা শহরের নাগরিকদের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যও রয়েছে। শিক্ষা খাতে আধুনিক প্রশিক্ষণ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং শিক্ষাকে আনন্দময় ও জীবনঘনিষ্ঠ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে ভাষা শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দেশীয় আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়নের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও ক্রীড়াকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নদী ও খাল খনন-পুনঃখনন, বড় জলসম্পদ প্রকল্প গ্রহণ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে মাসিক সম্মানি, উৎসবভাতা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের কথা বলা হয়েছে। একই ধরনের সহায়তা অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বশীলদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে জানা গেছে।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এই ইশতেহার দেশের মৌলিক গণতান্ত্রিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক মুক্তিকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত করা হবে।
দলটির প্রচার সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, ইশতেহারের বিষয়বস্তু জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক তথ্য-প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। এর মাধ্যমে ভোটাররা আগেভাগেই দলের পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা পাবেন এবং নিজেদের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।