
ওসমান হাদির ওপর সংঘটিত হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি ও সহযোগী গ্রুপ বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং উদ্ধার করা আলামত বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, হামলার আগে ও পরে চলাচল, অর্থের লেনদেন এবং অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে। গ্রেফতার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কিছু সন্দেহভাজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কারণে গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধার করা এসব আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে অস্ত্রের উৎস ও ব্যবহারের ধারাবাহিকতা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
হত্যাচেষ্টা মামলায় এখন পর্যন্ত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আদালতের অনুমতিক্রমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতকে জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার পূর্বপরিকল্পনা, সহযোগী এবং অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই চলছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কার কী ভূমিকা ছিল, কে বা কারা পরিকল্পনা ও অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিল—এসব বিষয়ে নিশ্চিত হতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় সংঘটিত এই হামলার পর ওসমান হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে বিদেশে নেওয়া হয়। ঘটনাটি তদন্তাধীন থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে না।