
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন একটি অভিযোগ সামনে এনেছে ইরান। তেহরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনের আদলে তৈরি একটি ড্রোন ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছে এবং পরে সেই হামলার দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ তুলেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘লুকাস’ নামের একটি ড্রোন ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হচ্ছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এই ড্রোনটি নকশায় ইরানের শাহেদ ড্রোনের মতো তৈরি করা হয়েছে, যাতে হামলার পর ঘটনাটিকে ইরানের সামরিক কার্যক্রম হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
ইরানি সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক, কুয়েত ও ইরাকের মতো প্রতিবেশী এবং বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর হামলার দায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ওপর চাপানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।
ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, হামলার ঘটনায় ইরানকে দায়ী দেখানোর মাধ্যমে দেশটির সামরিক বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনীর যে কার্যক্রম রয়েছে তা মূলত প্রতিরক্ষামূলক এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বৈধ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু নকল ড্রোন ব্যবহার করে হামলার ঘটনা ঘটিয়ে সেই দায় ইরানের ওপর চাপানো হলে আন্তর্জাতিক মহলে ভুল ধারণা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তেহরান।
ইরানের দাবি, এই কৌশলের মাধ্যমে দেশটির প্রতিরক্ষা কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে তেহরান এবং তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর পরিকল্পনাও থাকতে পারে।
তুরস্ক, কুয়েত ও ইরাকের মতো দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে অভিযোগ উঠেছে, তা ইরানের মতে পরিকল্পিতভাবে সাজানো হতে পারে। এসব ঘটনার মাধ্যমে তেহরানকে আঞ্চলিক অস্থিরতার জন্য দায়ী দেখানোর চেষ্টা চলছে বলে তারা মনে করছে।
ইরান আরও দাবি করেছে, এই ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি বা অবিশ্বাস তৈরি হলে তা কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
তেহরানের মতে, নকল ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো এবং পরে তার দায় অন্য দেশের ওপর চাপানোর মতো কৌশল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য হতে পারে ইরানের সামরিক বাহিনীর বৈধ ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপগুলোকে খাটো করা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছানোও এর উদ্দেশ্য হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরান মনে করছে, এই পরিস্থিতির ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্কেও চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যদি হামলার ঘটনাগুলো ইরানের নামে প্রচার করা হয়, তাহলে আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
এ কারণে তেহরান এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায় বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই এখন জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ইরানের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।