
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।
ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও রেলপথে বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবিলায় আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহাসড়ক বা রেলপথে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সশস্ত্র বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হেলিকপ্টার ইউনিট প্রস্তুত রাখা হবে।
বিশেষ করে দুর্গম এলাকা বা যানজটপূর্ণ স্থানে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করতে আকাশপথ ব্যবহার করা হবে।
এতে করে দুর্ঘটনার পর দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসা সেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্ধারকাজ আরও কার্যকর করতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি রেসকিউ বোট, আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
প্রয়োজনে কোস্ট গার্ডের সহায়তাও নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া মহাসড়কের আশপাশে থাকা হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারগুলোকে জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঈদের সময় যাত্রীদের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সড়ক ও রেলপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বাড়ে।
এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার পরবর্তী প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই সময়ের মধ্যে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানো গেলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়।
তাই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রস্তুতি ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এতে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা সহজ হবে।