
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে মার্কিন ডলারের আধিপত্য কমানোর লক্ষ্যে নতুন কৌশল নিয়ে কাজ করছে ইরান। এর অংশ হিসেবে তেলের লেনদেন চীনা মুদ্রা ইউয়ানে করার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে তেহরান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিতসংখ্যক তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে ভাবছে ইরান সরকার।
তবে এ ক্ষেত্রে একটি শর্ত রাখা হতে পারে।
সেই শর্ত অনুযায়ী, তেল ক্রেতাদের মূল্য পরিশোধ করতে হবে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে।
বিশ্ববাজারে তেলের লেনদেন সাধারণত মার্কিন ডলারে হয়ে থাকে।
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে ডলারই প্রধান মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
তবে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার তেলের লেনদেন অনেক ক্ষেত্রে রুবল বা ইউয়ানে সম্পন্ন হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরান ইউয়ানে তেল বাণিজ্যের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তাহলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল বাণিজ্যে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য চীন বহু বছর ধরে চেষ্টা করে আসছে।
চীনের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইউয়ানের প্রভাব বৃদ্ধি করা।
তবে এখনো বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে মার্কিন ডলারই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
এই পরিস্থিতিতে ইউয়ানের মাধ্যমে তেল বাণিজ্য শুরু হলে তা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে ইরানের খারগ দ্বীপের তেল অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে।
তার দাবি, ওই দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তু যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ধ্বংস করেছে।
খারগ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র।
ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামও ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়।
ফলে এই প্রণালিতে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
জাতিসংঘও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটির মানবিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল টম ফ্লেচার সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।
তার মতে, এতে খাদ্য, ওষুধ ও সারের মতো জরুরি পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
একই সঙ্গে এসব পণ্যের পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ইরানের ইউয়ানে তেল বাণিজ্যের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।