
খুলনার রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ ১৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যুদ্ধকবলিত দেশ ছাড়া একই পরিবারের বহু সদস্যসহ একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যু সাধারণত দেখা যায় না।
তার মতে, বাংলাদেশে রাস্তায় বের হওয়া অনেক সময় যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি লিখেছেন, মানুষ যখন সড়কে বের হয়, তখন অনেক সময় জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়।
তার ভাষায়, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অপ্রশিক্ষিত চালক, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং ভাঙাচোরা রাস্তা—সব মিলিয়ে সড়কের প্রতিটি মোড় যেন একেকটি মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব সমস্যার সমাধানে সরকার, পরিবহন মালিক, চালক এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।
সবাই যদি নিজ নিজ দায়িত্ব পালন না করে এবং ট্রাফিক আইন মেনে না চলে, তাহলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, সড়কে সুশাসন কোনো বিলাসিতা নয়।
বরং এটি মানুষের জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়।
তার মতে, সড়ক ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে যেকোনো যাত্রাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, বিয়ের যাত্রা, ঈদের ভ্রমণ বা দৈনন্দিন যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়।
ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যে তিনি খুলনা-মোংলা মহাসড়কে ঘটে যাওয়া ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য দোয়া করেন।
তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় তারা অত্যন্ত ব্যথিত ও শোকাহত।
নিহতদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক কামনা করেন।
এই দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনেকেই সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে কঠোর আইন প্রয়োগ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা এবং চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহর এই বক্তব্যও সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।