
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বাদেগাংনই গ্রামে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মালদ্বীপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ওই গ্রামের প্রবাসী যুবক নূরনবী সরকার (২৭)।
১০ বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।
দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ইতি টেনে আগামী কোরবানির ঈদে দেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন।
কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তব হলো না।
গত ১২ মার্চ দিবাগত রাতে মালদ্বীপের দিঘুরা আইল্যান্ডে শ্রমিকদের আবাসিক কোয়ার্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নূরনবীর মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নূরনবীসহ পাঁচ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
নূরনবীর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে প্রতিবেশীরা ভিড় করছেন।
নূরনবী ছিলেন তিন বোনের একমাত্র ভাই এবং পরিবারের একমাত্র ছেলে।
তার বাবা আব্দুস সামাদ ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে ভেঙে পড়েছেন।
তিনি বারবার বিলাপ করে বলছেন, অন্তত শেষবারের মতো ছেলের মুখ দেখতে চান।
তার আকুতি—সরকার যেন দ্রুত তার ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মালদ্বীপে সেহরির রান্না করতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে।
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের আবাসিক কোয়ার্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই অগ্নিকাণ্ডেই প্রাণ হারান নূরনবী।
এদিকে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
নূরনবীর ভাগনে মাহবুব বলেন, তার মামা গত ১০ বছরে একবারও দেশে আসেননি।
তিনি বলেন, এবার দেশে ফেরার সব প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত ছিল।
কিন্তু এখন পরিবার জানে না কবে তার মরদেহ দেশে পৌঁছাবে।
এই অনিশ্চয়তা পরিবারকে আরও দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নূরনবী ছিলেন পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল একজন মানুষ।
প্রবাসে থেকে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান জানান, মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য পাওয়ার পর মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে নূরনবীর পরিবার এখন শুধু অপেক্ষা করছে প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার।
তারা শেষবারের মতো তাকে দেখতে চান এবং নিজ গ্রামে দাফন করতে চান।