
দেশের হাসপাতালগুলোকে দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
পরে সিংগাইর পৌরসভার উদ্যোগে আয়োজিত মশকনিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করতেও অংশ নেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে দালাল ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যা দূর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোকে দালালমুক্ত করা এবং দুর্নীতি বন্ধের মাধ্যমে জনগণকে হয়রানিমুক্ত চিকিৎসাসেবা দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
মন্ত্রী বলেন, “সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই চিকিৎসা নিতে পারে, সে জন্য হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়ানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী উপজেলা পর্যায় থেকেই অধিকাংশ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এতে করে রোগীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় শহরের হাসপাতালে যেতে হবে না এবং স্থানীয় পর্যায়েই অনেক চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সরকার বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের সাধারণ মানুষ আরও সহজে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা অচল হয়ে থাকা হাসপাতালগুলোও পর্যায়ক্রমে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ বাড়ানো হবে।
মন্ত্রী বলেন, “মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যখাতে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট দূর করতে বড় ধরনের নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে নতুন করে প্রায় এক লাখ কর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই নিয়োগপ্রাপ্তদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।
বিশেষ করে নার্সদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও মানসম্মত করে তোলা হবে।
এর মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার ধাপে ধাপে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
পরিদর্শন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা, জনপ্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।