
কুমিল্লায় পৃথক তিনটি অভিযানে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এবং এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ মাদক ও একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
প্রথম অভিযানে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার আমড়াতলী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে মাদক মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. সাইফুর রহমান সৈকতকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাইফুর রহমান সৈকত আমড়াতলী গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একইদিনে পৃথক আরেকটি অভিযানে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার ফুলতলি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা মাদক ব্যবসায়ীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
তারা পালানোর সময় দুইটি বস্তা ফেলে রেখে যায়। পরে ওই বস্তাগুলো তল্লাশি করে মোট ৩৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের ধারণা, এসব মাদক স্থানীয় এলাকায় বিক্রি বা অন্যত্র পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করে রাখা হয়েছিল।
অন্যদিকে সদর দক্ষিণ মডেল থানার মাটিয়ারা পূর্ব এলাকায় পরিচালিত আরেকটি বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল এবং দুইটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, ওই এলাকায় সন্দেহজনকভাবে কিছু সন্ত্রাসী অবস্থান করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
পালানোর সময় তারা একটি ব্যাগ ফেলে রেখে যায়। পরে সেই ব্যাগ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল এবং দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১১ এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে যে মাটিয়ারা পূর্ব এলাকার একটি সেতুর ওপর দুষ্কৃতকারীরা জড়ো হয়েছিল।
তিনি বলেন, তারা সেখানে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
র্যাবের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তারা দ্রুত পালিয়ে যায় এবং ব্যাগটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
র্যাব সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।