
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অন্যতম আলোচিত তারকা ও সাবেক অধিনায়ক বাবর আজমকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি আইনি বিতর্কে নতুন মোড় এসেছে। যৌন হয়রানির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করার যে নির্দেশনা আগে দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করেছে লাহোর হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে আদালত সেশনস কোর্টের সেই নির্দেশনাকে বাতিল ঘোষণা করে। এর ফলে বাবর আজমের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করার যে আদেশ দেওয়া হয়েছিল, সেটি আর কার্যকর থাকছে না।
এর আগে একটি সেশনস কোর্ট এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে বাবর আজমের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করেন পাকিস্তান জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।
বাবর আজমের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট সেশনস কোর্টের দেওয়া নির্দেশনাটি বাতিল করে দেয়। আদালতের এই রায়ের ফলে বাবরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করার প্রক্রিয়াটি আর এগোবে না।
বিচারিক প্রক্রিয়ার সময় বাবর আজমের পক্ষের আইনজীবী আদালতে বিস্তারিত যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি আদালতকে জানান, অভিযোগকারী নারী ২০১৮ সালে বাবর আজমের বিরুদ্ধে একটি আবেদন করেছিলেন, যেখানে তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলা হয়।
আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, অভিযোগকারী নারী হুমাইজা মুখতার পরে বাবর আজমের কাছে অর্থ দাবি করেন। কিন্তু বাবর সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।
এরপরই ওই নারী বিচারিক প্রক্রিয়ার আরেকটি ধাপ হিসেবে ‘জাস্টিস অব পিস’-এর কাছে আবেদন করেন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়।
এই আবেদনের ভিত্তিতে জাস্টিস অব পিস বাবর আজমের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। পরে সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই বিষয়টি সেশনস কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
তবে বাবরের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন যে, এই নির্দেশনা প্রচলিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তাই সেশনস কোর্টের সেই আদেশ বাতিল করা প্রয়োজন।
আদালত দীর্ঘ সময় ধরে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও আইনি যুক্তি শুনে বিষয়টি বিবেচনা করে।
সব দিক পর্যালোচনা করে শেষ পর্যন্ত লাহোর হাইকোর্ট বাবর আজমের আবেদন মঞ্জুর করে এবং সেশনস কোর্টের দেওয়া নির্দেশনাটি বাতিল করে দেয়।
এই রায়ের ফলে বাবর আজমের বিরুদ্ধে যে ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেটি আর বহাল থাকছে না।
পাকিস্তান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন হিসেবে বাবর আজম দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের এই আইনি বিতর্কও দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনায় ছিল।
লাহোর হাইকোর্টের এই রায়ের মাধ্যমে সেই বিতর্কে আপাতত একটি নতুন মোড় এলো।
তবে এই ঘটনার পর পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গন ও গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও কিছুদিন চলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।