
নাগরিকদের দুর্বল রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে বলেও তিনি জানান।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয় যখন তার নাগরিকরা নিরাপদ ও স্বচ্ছল জীবনযাপন করতে পারে। নাগরিকদের দুর্বল অবস্থায় রেখে রাষ্ট্রের শক্তি বৃদ্ধি সম্ভব নয়। তাই সরকার প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই একটি উন্নত সমাজ গঠনের জন্য যথেষ্ট নয়। মানুষের জীবনে ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, সহনশীলতা, উদারতা এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রকৃত মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। এই মূল্যবোধগুলো সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে ধর্মীয় নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি পবিত্র হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যার আমানতদারি নেই এবং যার কাছে মানুষ নিরাপত্তা পায় না, সে প্রকৃত ইমানদার নয়। একইভাবে যার কথার মূল্য নেই বা ওয়াদা রক্ষা করে না, তার কোনো ধর্মীয় মূল্যও থাকে না।
তারেক রহমান বলেন, প্রতিহিংসা ও সহিংসতামুক্ত একটি সমাজ গড়ে তুলতে ধর্মের মানবিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষা মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, সহনশীলতা এবং নৈতিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদ রয়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানকে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বড় সুযোগ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় দেশে ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ চালু করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ কার্যক্রম চালু করেছিল।
তিনি জানান, বর্তমান সরকারও ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী প্রদানের পাশাপাশি তাদের দক্ষতাকে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে।
সরকারি এই কর্মসূচির প্রথম ধাপে একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, এই পর্যায়ে দেশের চার হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন ধর্মীয় নেতা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ধর্মীয় নেতাদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
এ ছাড়া প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকে একজন ইমাম, খতিব অথবা ধর্মীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—সবাই মিলে এই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে যেন কোনো বিভেদ সৃষ্টি না হয় এবং সবাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে—এটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সরকারের লক্ষ্য একটি নিরাপদ, মানবিক ও সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।