বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় পুকুর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বেতাগা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে দেবাশীষ দাশ নামের ওই ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন ফকিরহাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নেওয়াজ শরিফ। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফকিরহাট মডেল থানার পুলিশের একটি দলও অংশ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেতাগা এলাকায় একটি পুকুর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযোগের সত্যতা পান। এরপর দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে দেবাশীষ দাশকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন বলছে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি স্থানীয় পরিবেশ ও জনজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ফকিরহাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নেওয়াজ শরিফ জানান, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনস্বার্থ রক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রশাসন নিয়মিতভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, নদী বা পুকুর থেকে অনুমতি ছাড়া বালু উত্তোলন করলে তা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এতে স্থানীয় ভূমির গঠন ও জলাধারের স্বাভাবিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
মো. নেওয়াজ শরিফ আরও বলেন, প্রশাসনের লক্ষ্য হচ্ছে পরিবেশ রক্ষা করা এবং জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করা। তাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি আইন অমান্য করে বালু উত্তোলনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিতভাবে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, পুকুর বা নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলন করলে পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাতেও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্থানীয় মানুষকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
ফকিরহাটে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট করা হয়েছে যে পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতেও একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
