
রাজশাহীর Durgapur Upazila উপজেলার পালশা থান্দারপাড়ায় অবস্থিত প্রায় ২৭০ বছরের পুরোনো একটি এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা রহস্যময় ঘটনার গল্প প্রচলিত রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মুঘল আমলের এই প্রাচীন স্থাপনাটিতে মাঝে মধ্যেই অদ্ভুত কিছু ঘটনার সাক্ষী হন তারা।
এলাকাবাসীর মতে, মসজিদে আজান শুরু হলেই আশপাশে সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো— আজান শেষ হওয়ার পরপরই সাপগুলো আবার অদৃশ্য হয়ে যায়।
কখনো কখনো গভীর রাতে বা ফজরের আগে মসজিদের ওজুখানার দিক থেকে পানির শব্দও শোনা যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই শব্দ শুনে মনে হয় যেন একসঙ্গে অনেক মানুষ ওজু করছেন। তবে কাছে গিয়ে কাউকে দেখা যায় না।
মসজিদের সাবেক মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান জানান, তিনি বহুবার এমন ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন।
তার মতে, আজান দেওয়ার সময় আশপাশে সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও কিছুক্ষণ পর সেগুলো আর দেখা যায় না।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এই ছোট্ট এক গম্বুজ মসজিদটি মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলীর একটি নিদর্শন।
সময়ের সঙ্গে আশপাশের পরিবেশ ও বসতবাড়িতে অনেক পরিবর্তন এলেও মসজিদটির মূল কাঠামো এখনো অনেকটাই আগের মতো রয়েছে।
মসজিদের দীর্ঘদিনের খাদেম আনসার আলী মৃধা জানান, তিনি বহু বছর ধরে এই মসজিদের দেখভাল করছেন।
তার ভাষায়, শুধু সাপের উপস্থিতিই নয়— মাঝেমধ্যে গভীর রাতে বা ফজরের আগে ওজুখানার দিক থেকে পানির শব্দও শোনা যায়।
তবে সেখানে গিয়ে কাউকে দেখা যায় না বলেও জানান তিনি।
এলাকার বাসিন্দা রুহুল কুদ্দুস মাস্টার, ইমরান ও কাবেদ আলী জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা এই মসজিদকে ঘিরে নানা গল্প শুনে আসছেন।
কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করেন, আবার কেউ মনে করেন এটি প্রাচীন মসজিদের রহস্যময় পরিবেশের অংশ।
স্থানীয়দের মতে, এই মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, বরং এটি এলাকাবাসীর বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবেও পরিচিত।
একসময় ছোট্ট এই মসজিদে একসঙ্গে মাত্র সাতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন।
বর্তমানে পাশেই একটি নতুন জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে পুরোনো এই মসজিদটি এখনো ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।
এলাকার অনেক মানুষের বিশ্বাস, এই মসজিদে মানত করলে মনের আশা পূরণ হয়।
এই কারণে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেক মানুষ এখানে নামাজ আদায় করতে বা প্রাচীন স্থাপনাটি দেখতে আসেন।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ঐতিহাসিক এই মসজিদটির কিছু অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
তাদের মতে, প্রাচীন স্থাপনাটির মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের আশা, যথাযথ সংস্কার করা হলে এটি একদিকে যেমন ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে, তেমনি দর্শনার্থীদের কাছেও আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।