
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করে বলেছেন, উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিলে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের ‘জীবন ও নিরাপত্তা’ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের জাতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপে অংশ নিলে তাদের স্বাগত জানানো হবে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের সেখানে উপস্থিত থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তিনি লেখেন, “ইরানের জাতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপে অংশ নিলে অবশ্যই তাদের স্বাগত জানানো হবে। তবে তাদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।”
এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এর মাত্র দুই দিন আগেই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা FIFA–এর সভাপতি Gianni Infantino–কে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে অংশ নিলে তিনি তাদের স্বাগত জানাবেন।
এই দুই ধরনের বক্তব্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। এই উত্তেজনার প্রভাব আন্তর্জাতিক রাজনীতি ছাড়াও ক্রীড়াঙ্গনেও পড়তে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সেই উত্তেজনার প্রভাবই এখন বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এবারের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে United States, Canada এবং Mexico।
আগামী ১১ জুন এই টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকের পর ইনফান্তিনো বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে ইরান দল অংশ নিতে চাইলে তাদের স্বাগত জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব কমিয়ে আনার চেষ্টা করা উচিত।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ফিফা একটি নতুন ‘শান্তি পুরস্কার’ চালু করে। সেই পুরস্কারের প্রথম প্রাপক ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ায় সফররত ইরানের নারী ফুটবল দলের কয়েকজন খেলোয়াড় নিয়েও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
খবরে বলা হয়েছে, এশিয়ান কাপের একটি ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় দেশে ফিরে প্রতিশোধের আশঙ্কা করেছিলেন ওই খেলোয়াড়রা।
পরে Australia সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, যারা সেখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এমন পাঁচজন খেলোয়াড়কে আশ্রয় দেওয়া হবে।
এই ঘটনাও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাব ভবিষ্যতে বড় ক্রীড়া আসরগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে।