
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ট্রেনে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন নগরবাসী। শুক্রবার (১৩ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
সকাল থেকেই স্টেশন এলাকায় ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রীরা তাদের প্রয়োজনীয় মালপত্র নিয়ে প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছেন। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য।
যাত্রীরা জানান, ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই সাধারণত যাত্রীচাপ বাড়তে থাকে। তাই অনেকেই ভিড় এড়াতে আগেভাগেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মিনহাজুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ থাকায় তিনি কয়েকদিন আগেই বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঈদের পরপরই আবার পরীক্ষা শুরু হবে বলে দ্রুত ফিরে আসতে হবে।
তিনি বলেন, “কয়েকদিন পর ভিড় আরও বেড়ে যাবে। তাই আগেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রী সোনিয়া বলেন, ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ভিড়ের মধ্যে ভ্রমণ করা অনেক কষ্টকর। তাই ভিড় বাড়ার আগেই তিনি সন্তানদের নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন।
তিনি জানান, তার স্বামী ঢাকায় কর্মস্থলে থাকবেন এবং ঈদের দুই দিন আগে বাড়িতে যাবেন। তিনি সন্তানদের নিয়ে আগেই বাড়ি চলে যাচ্ছেন যাতে ভিড়ের কষ্ট এড়ানো যায়।
মিতু নামের আরেক যাত্রী বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করার জন্য তিনি বাড়ি যাচ্ছেন। এবার কয়েকদিন পরিবারের সঙ্গে কাটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।
তিনি বলেন, ট্রেনে যাতায়াত তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হওয়ায় প্রতি বছরই তিনি ট্রেনে বাড়ি যান।
ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্টেশন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে। তারা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছেন।
এছাড়া স্টেশনে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিন স্তরের টিকিট চেকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
এই ব্যবস্থার আওতায় টিকিট যাচাইয়ের পরই যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারছেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের সুবিধার জন্য অতিরিক্ত ট্রেন চালানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
ঈদযাত্রা যতই ঘনিয়ে আসবে, ততই স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের ভিড় আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।