
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে করা এক মন্তব্যের কারণে নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা করা ‘মহা সম্মানের’ বিষয়।
বিবিসির এক লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকালে ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই মন্তব্য করেন।
পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শাসনব্যবস্থাকে সামরিক, অর্থনৈতিক এবং অন্যান্য উপায়ে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি লেখেন, “আমরা ইরানের সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে সামরিক, অর্থনৈতিক এবং অন্যভাবে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করছি।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের নেতাদের পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।
নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতুলনীয় অস্ত্রশক্তি, বিপুল গোলাবারুদ এবং পর্যাপ্ত সময় রয়েছে।
পোস্টে ট্রাম্প আরও লেখেন, “আজ এই বিকৃত বদমাশদের কী হয় তা দেখুন। তারা ৪৭ বছর ধরে সারা বিশ্বে নিরীহ মানুষকে হত্যা করে আসছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাদের হত্যা করছি। এটি করা কত বড় সম্মানের বিষয়।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
এর আগে তেলের দাম নিয়ে করা এক মন্তব্যের কারণেও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ। তাই তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক লাভও বাড়ে।
তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেটর মার্ক কেলি।
অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের এই সিনেটর বলেন, ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, তার কারণে কর্মজীবী সাধারণ আমেরিকানরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে, অথচ এতে বড় বড় তেল কোম্পানিগুলোই লাভবান হচ্ছে।
সিনেটর মার্ক কেলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “ট্রাম্প কেন এতে খুশি? কারণ তিনি কেবল ধনী ব্যক্তিদের কথাই ভাবেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।