
সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। শনিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, হামলার পর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে শান্তিরক্ষী বাহিনীর সংঘর্ষ চলমান রয়েছে।
এই হামলার খবরে নিহত ছয় সেনা সদস্যের নিজ নিজ গ্রাম ও পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অপেক্ষমাণ পরিবারগুলো প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার প্রহর গুনছে। কারও ঘরে সদ্যবিবাহিত স্ত্রীর কান্না, কোথাও মায়ের আহাজারি, আবার কোথাও একমাত্র সন্তানকে হারানোর বেদনায় নিস্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো এলাকা।
নিহতদের মধ্যে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর সবুজ মিয়া মিশনে লন্ড্রি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এক বছর আগে বিয়ে করা সবুজ তিন মাস আগে ছুটিতে বাড়ি এসে আবার কর্মস্থলে ফিরে যান। ছেলের মৃত্যুর খবরে তার মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, আর সদ্যবিধবা স্ত্রীর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো গ্রাম।
নাটোরের লালপুর উপজেলার করপোরাল মাসুদ রানা মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ডিউটির কষ্ট নেই বলে মাকে আশ্বস্ত করে ভালো থাকতে বলে বিদায় নিয়েছিলেন তিনি। সেই কথাই এখন পরিবারের কাছে শেষ স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে।
কুড়িগ্রামের শান্ত মন্ডল ও মমিনুল ইসলাম মৃত্যুর আগে ভিডিও কলে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। শান্তর পরিবার তাকে বাবার কবরের পাশে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর মমিনুলের বাবা ছেলের শহীদি মৃত্যুকে আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত বলে ধৈর্য ধরার চেষ্টা করছেন।
কিশোরগঞ্জের জাহাঙ্গীর আলম স্ত্রী ও তিন বছরের একমাত্র সন্তানকে রেখে শান্তিরক্ষী মিশনে গিয়েছিলেন মাত্র এক মাস আগে। রাজবাড়ীর শামীম রেজার পরিবারও এখন বাকরুদ্ধ। দেড় বছর আগে বিয়ে করা ছেলেকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তার বাবা, সেগুলো এক মুহূর্তে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
দেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ইতিহাসে এই ঘটনা আরেকটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের আত্মত্যাগ ও অবদান আবারও রক্তে লেখা হলো, আর দেশের মাটিতে ছয়টি পরিবার আজ চিরদিনের জন্য শোকবাহী হয়ে রইল।