
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত দাউদ খান ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে দাবি উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার হামলার পর রাতের ট্রেনে হামলাকারী ও তার সহযোগী বাইকচালক সিলেটে পৌঁছান এবং পরে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সহযোগিতায় এই পলায়ন ঘটেছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
এক আল-জাজিরা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক রোববার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে জানান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেন বর্তমানে ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে অবস্থান করছেন। পোস্টে বলা হয়, ১২ ডিসেম্বর রাতে তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন—এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ওই পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ভারতে অবস্থানকালে তাদের সহায়তা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী মো. মাসুদুর রহমান বিপ্লব। বিপ্লবের তত্ত্বাবধানে অভিযুক্তরা সেখানে অবস্থান করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
হাদির ওপর হামলার বিষয়ে সাংবাদিকটি বলেন, নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে যে ঘটনাটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ছিল এবং একই ধরনের আরও হামলার জন্য একাধিক হিট টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মূল শ্যুটার ফয়সাল নিজের ঘনিষ্ঠ মহলে দাবি করেছেন যে ব্যবহৃত অস্ত্রটি জ্যাম হয়ে যাওয়ায় তিনি কেবল একটি গুলি করতে পেরেছিলেন, যদিও তার পরিকল্পনা ছিল চারটি গুলি করার।
পোস্টে আরও বলা হয়, ফয়সালের মতোই আরেক অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সাজ্জাদের নাম উঠে এসেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রামের মুরাদপুরে ফয়সাল আহমেদ শান্ত হত্যার মামলায় তাকে গত ১৩ মে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হলেও তিনি ২৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে কারামুক্ত হন।
সাংবাদিকের মতে, অনতিবিলম্বে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের যেসব অস্ত্রধারী ক্যাডার বিভিন্ন মামলায় জামিনে মুক্ত হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের বর্তমান অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে যাচাই করা জরুরি। এই দাবি ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।