
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে ইরানের পক্ষ থেকে চালানো এই হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
কুয়েতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন জানিয়েছে, একাধিক ড্রোন ব্যবহার করে বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়। হামলার ফলে বিমানবন্দরের কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলার পরপরই জরুরি নিরাপত্তা পরিকল্পনা কার্যকর করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হয়। বিমানবন্দরের কার্যক্রম যাতে স্বাভাবিক রাখা যায় এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় সে লক্ষ্যে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কুয়েত নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশনের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজহি বলেন, ঘটনাটি জরুরি পরিকল্পনা অনুযায়ী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সমন্বয়ে মোকাবেলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিমান চলাচল ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কুয়েত রাষ্ট্র, এর আমির, জনগণ এবং সরকারের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কুয়েত সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পরিস্থিতি এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে দেশটি এই সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে পড়ছে। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনার সময়ে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থানে পরিণত করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কুয়েতে হামলার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার কারণে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কুয়েত সরকার বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে।
ড্রোন হামলার এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এদিকে কুয়েত কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছে।