
বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার গাবতলী পুলিশ লাইন এলাকায় এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন সেঞ্চুরি গার্মেন্টস নামের একটি কারখানার শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গত দুই মাস ধরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের বেতন এবং ওভারটাইমের টাকা পরিশোধ করেনি। দীর্ঘদিন ধরে পাওনা অর্থ না পাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেতন দেওয়ার নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও মালিকপক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বা সমাধান পাওয়া যায়নি।
শ্রমিকরা জানান, চলতি সপ্তাহের সোমবার তাদের বেতন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বেতন না পাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে তারা একাধিকবার কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং পাওনা অর্থ পরিশোধের দাবি জানান।
তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই তারা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং গাবতলী পুলিশ লাইন এলাকার সড়ক অবরোধ করেন।
সড়ক অবরোধের কারণে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কর্মস্থলে যাওয়া মানুষ, অফিসগামী যাত্রী এবং সাধারণ পথচারীদের অনেকেই দীর্ঘ সময় আটকে পড়েন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের একজন এবং কারখানার কাটিংম্যান আব্দুল খালেক বলেন, দুই মাস ধরে তাদের বেতন ও ওভারটাইমের কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি। তিনি জানান, বারবার দাবি জানানোর পরও যখন কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি, তখন বাধ্য হয়েই তারা সড়কে নেমে আন্দোলন শুরু করেছেন।
আব্দুল খালেক আরও বলেন, তাদের পাওনা অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে শ্রম দিয়ে কারখানায় কাজ করছেন, তাই তাদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা উচিত।
ঘটনার খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পাশাপাশি শিল্প পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে উপস্থিত হন।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ, শিল্প পুলিশ এবং র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। একই সঙ্গে মালিকপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে মালিকপক্ষ থেকে তাদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হয়।
পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকরা তাদের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। এর ফলে সড়কে আবার যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে।