
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকায় পানিভর্তি একটি বালতিতে পড়ে রায়ান মিয়া নামে এক বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল সাড়ে আটটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু রায়ান মিয়া আখাউড়া পৌর এলাকার দেবগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা সাত্তার মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় শিশুটি বাড়ির ভেতর খেলছিল। এ সময় বাড়ির একটি স্থানে পানিভর্তি একটি বালতি রাখা ছিল।
খেলার এক পর্যায়ে শিশুটি ওই বালতির কাছে যায় এবং পানির ভেতরে মাথা ঢুকিয়ে দেয়।
ধারণা করা হচ্ছে, সে সময় ভারসাম্য হারিয়ে শিশুটি বালতির পানির ভেতরে পড়ে যায়।
ঘটনাটি প্রথমে পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে না।
কিছু সময় পর শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের লোকজন তাকে পানিভর্তি বালতির ভেতরে পড়ে থাকতে দেখেন।
এ সময় দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) মো. লুৎফুর রহমান জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন যে শিশুটি পানিভর্তি বালতিতে পড়ে যায় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ঘরের ভেতর পানিভর্তি পাত্র বা ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু খোলা অবস্থায় রাখা বিপজ্জনক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ঘরের ভেতরেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।
তাই পরিবারকে শিশুদের প্রতি সর্বক্ষণ নজরদারি রাখার পরামর্শ দেন তারা।
বিশেষ করে পানিভর্তি বালতি, ড্রাম বা অন্য কোনো পাত্র শিশুদের নাগালের বাইরে রাখার বিষয়েও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তারা।