
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন পিরোজপুর-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামীম সাঈদী। তিনি প্রয়াত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের ফলাফলে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে এই আবেদন করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-২ আসনে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী আহমেদ সোহেল মনঞ্জুর।
এই ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী শামীম সাঈদী।
এর আগে বিভিন্ন আসনের নির্বাচনী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে ৩০-এর বেশি প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করেছেন।
এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ব্যালট পেপার এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত মনে করেছেন, নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাই করার জন্য এসব উপকরণ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগের ক্ষেত্রে হাইকোর্টে নির্বাচনী আবেদন করা যায়।
এই ধারার আওতায় হাইকোর্ট নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল হিসেবে কাজ করে এবং নির্বাচনের ফলাফল সংক্রান্ত অভিযোগের শুনানি গ্রহণ করে।
বর্তমানে বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব নির্বাচনী আবেদন শুনানি করছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আদালতে আবেদন করা বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার একটি স্বীকৃত আইনি প্রক্রিয়া।
এর মাধ্যমে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং আদালত প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্দেশনা দিতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর আদালতে আবেদন করার ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রতিফলন।
তবে আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই এসব অভিযোগের আইনি নিষ্পত্তি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।