
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় বজ্রপাতে জালাল উদ্দীন (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের ভাবির মোড় এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত জালাল উদ্দীন ওই এলাকার মৃত মোখলেসুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে এলাকায় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। সেই সময় জালাল উদ্দীন বাড়ির পাশে একটি বিলে শসা তুলতে যান।
বৃষ্টির মধ্যেই তিনি জমিতে কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে বজ্রপাত হলে তিনি তার শিকার হন।
স্থানীয়রা জানান, বজ্রপাতের পরপরই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা দেখতে পান জালাল উদ্দীন গুরুতর অবস্থায় পড়ে আছেন।
স্বজনদের খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, জালাল উদ্দীন একজন পরিশ্রমী কৃষক ছিলেন এবং তিনি পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন।
হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় তার পরিবার গভীর শোকের মধ্যে পড়েছে।
এ বিষয়ে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর বর্ষা ও বজ্রপাতের মৌসুমে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে কৃষিকাজে মাঠে থাকা মানুষজন বজ্রপাতের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের সময় সতর্ক থাকার জন্য নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।