
পাবনার চাটমোহর উপজেলায় চাঞ্চল্যকর একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে আপন চাচাতো ভাইকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে সুমন হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুমনসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভোরে চাটমোহর উপজেলার রামচন্দ্রপুর শ্মশান এলাকা থেকে নিহত ইমরান হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ইমরান হোসেন উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের শুকুরভাঙ্গা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে। তিনি অটোভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
নিহতের স্বজন সাদ্দাম হোসেন জানান, বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় ইমরান হোসেনের অটোভ্যানটি ভাড়া নেন তার চাচাতো ভাই সুমন হোসেন। সে সময় অটোভ্যানে যাত্রী হিসেবে ছিলেন হেলালসহ আরও দুজন।
সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত তারা চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন। পরে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রামচন্দ্রপুর শ্মশান এলাকায় পৌঁছালে পরিকল্পিতভাবে ইমরানের ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে তাকে মারধর করা হয় এবং পরে অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার মরদেহ শ্মশান এলাকায় ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
পরে তারা পাশের ভাঙ্গুড়া উপজেলার একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয় বলে জানা গেছে।
এদিকে রাতের পর থেকে ইমরান হোসেন বাড়িতে না ফেরায় তার পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় বাজারে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন, তিন ব্যক্তিকে নিয়ে ইমরান ভাড়ায় অটোভ্যান নিয়ে বের হয়েছিলেন।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ওই তিন ব্যক্তির খোঁজ করতে করতে ভাঙ্গুড়া উপজেলার একটি বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে সুমনসহ তিনজনের কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হলে এবং সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করলে এলাকাবাসী তাদের আটক করেন।
পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন যে ইমরানকে হত্যা করে রামচন্দ্রপুর শ্মশান এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার রাতেই পরিবারের সদস্যরা চাটমোহর থানায় খবর দেন।
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং বৃহস্পতিবার ভোরে শ্মশান এলাকা থেকে নিহত ইমরানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তাক্ত জখম দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।