
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার কিছু পরে স্পিকারের চেয়ার খালি রেখে সংসদের কার্যক্রম শুরু করা হয়। সংসদের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অধিবেশনের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে কার্যক্রমের সূচনা হয়।
সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার আগে একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য অস্থায়ীভাবে সভাপতিত্ব করেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংসদ নেতা অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন। এরপর আরেকজন সংসদ সদস্য সেই প্রস্তাব সমর্থন করবেন। প্রস্তাব ও সমর্থনের পর যাঁর নাম প্রস্তাব করা হবে, তিনি ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।
সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। সেই ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। এই অধিবেশনে এটিই হবে তাঁর প্রথম ভাষণ।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ সংসদীয় প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাধারণত মন্ত্রিসভা আগে এই ভাষণের খসড়া অনুমোদন করে। পরে সংসদে তা উপস্থাপন করা হয় এবং সংসদ সদস্যরা ভাষণের ওপর আলোচনা করেন। এই আলোচনার মধ্য দিয়ে সরকারের নীতিমালা, পরিকল্পনা ও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে সংসদে মতামত তুলে ধরা হয়।
এটি শুধু নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনই নয়, বরং ২০২৬ সালেরও প্রথম সংসদ অধিবেশন। সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী প্রতি বছর সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। এর মাধ্যমে নতুন বছরের সংসদীয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন। সেই আহ্বানের পরই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আজ সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
আজকের অধিবেশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এই দুটি পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে কে প্রার্থী হবেন, সেই সিদ্ধান্তের দায়িত্ব সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দিয়েছে বিএনপির সংসদীয় দল। বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংসদ নেতার ওপরই দেওয়া হয়েছে।
নূরুল ইসলাম বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংসদ নেতা যাঁকে উপযুক্ত মনে করবেন, তাঁর নামই প্রস্তাব করা হবে। এরপর সংসদের নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
সংসদের প্রথম অধিবেশন সাধারণত নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই অধিবেশন থেকেই সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বগুলো সম্পন্ন করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই প্রথম অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা চলছে।
সব মিলিয়ে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন দেশের সংসদীয় কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই অধিবেশনেই নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।