
স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ঢাকার অদূরের সম্ভাবনাময় উপজেলা সাটুরিয়ায় এখনো দূরপাল্লার বাস চলাচলের জন্য কোনো স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড গড়ে ওঠেনি।
এই কারণে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রীকে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন সড়কের ওপর অস্থায়ীভাবে বাস, ট্রাক এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড তৈরি হলেও তা যাত্রীদের জন্য নিরাপদ বা স্বস্তিদায়ক নয়।
স্থায়ী বাসস্ট্যান্ডের অভাবে উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষ প্রতিদিন যাতায়াতে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
রোদ, বৃষ্টি কিংবা ঝড়ের মধ্যেই সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের।
অনেক সময় চলন্ত বাস সামান্য সময়ের জন্য থামিয়ে যাত্রী ওঠানো হয়।
এতে যাত্রীদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
রাজধানী ঢাকা এবং আশপাশের জেলা-উপজেলায় যাওয়ার জন্য সাটুরিয়ার মানুষকে প্রায়ই সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করতে হয়।
এই পরিস্থিতিতে অনেক যাত্রী দুর্ঘটনার শিকারও হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সাটুরিয়া-ঢাকা রুটে দীর্ঘদিন ধরে ‘এসবি লিংক’ (বর্তমানে ঢাকা-নাগরপুর লিংক) নামে একটি পরিবহন চলাচল করছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বাসের অনেকগুলোর অবকাঠামোগত অবস্থা ভালো নয়।
কিছু বাসের জানালা ও সিট ভাঙা বা ছেঁড়া অবস্থায় রয়েছে।
স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড না থাকায় যাত্রীরা মানসম্মত পরিবহন সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
সাটুরিয়া থেকে কালামপুরের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং সাটুরিয়া থেকে গোলড়া হয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার।
এই দুই পথ পাড়ি দিয়ে মহাসড়কে গিয়ে ঢাকাগামী বাস ধরতে হয়।
এর জন্য অনেকেই হ্যালোবাইক বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ব্যবহার করেন।
কিন্তু এতে যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যায়।
বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বা রাতে ভাড়া দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
এ ছাড়া এসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীরা প্রায়ই চুরি ও ছিনতাইয়ের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অতিরিক্ত পরিবহন খরচের কারণে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আলম হোসেন জানান, সাভারে যেতে হলে তাকে আগে সিএনজিতে করে কালামপুর যেতে হয়।
এতে জনপ্রতি ভাড়া দিতে হয় প্রায় ৫০ টাকা।
সেখান থেকে আবার সাভার যেতে বাসভাড়া লাগে ৩০ টাকা।
তিনি বলেন, যদি সাটুরিয়ায় একটি বাসস্ট্যান্ড থাকত এবং সেখান থেকে সরাসরি বাস চলাচল করত, তাহলে সাভার যেতে তার খরচ প্রায় ৫০ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত।
কিন্তু বর্তমানে তাকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।
স্থানীয় দরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদও একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানান।
তিনি বলেন, অসুস্থ সন্তানকে সাভারে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় সড়কে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে।
পরে বাস না পেয়ে সিএনজিতে কালামপুর যেতে হয়।
সেখানেও আবার কিছু সময় অপেক্ষা করার পর বাস পাওয়া যায়।
এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় ডাক্তারকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, সাটুরিয়ায় যদি একটি ভালো বাসস্ট্যান্ড থাকত এবং নিয়মিত বাস চলাচল করত, তাহলে এ ধরনের সমস্যায় পড়তে হতো না।
সাটুরিয়া উপজেলা থেকে মানিকগঞ্জ জেলা শহর, টাঙ্গাইল জেলা, নাগরপুর, মির্জাপুর ও ধামরাই উপজেলায় বিভিন্ন দাপ্তরিক ও ব্যবসায়িক কাজে প্রতিদিন অনেক মানুষ যাতায়াত করেন।
কিন্তু তাদের যাতায়াতের জন্য নির্ভরযোগ্য পরিবহন ব্যবস্থা খুবই সীমিত।
বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু ও বয়স্করা এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হোসেন বলেন, উন্নয়নের অগ্রাধিকারের তালিকায় এই মুহূর্তে সাটুরিয়ায় একটি বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ অত্যন্ত প্রয়োজন।
তিনি জানান, বিষয়টি মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে অবহিত করা হয়েছে।
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিষয়টি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।