
প্রাথমিক শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ও বৃত্তি প্রদান কার্যক্রমকে নতুন কাঠামোর আওতায় আনতে ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬’ জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত এই নীতিমালা সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা মোট ৪০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে।
এই নীতিমালার আলোকে ২০২৬ সাল থেকে বৃত্তি সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তবে বিশেষ ব্যবস্থায় ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাও একই নীতিমালার ভিত্তিতে আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
তবে চতুর্থ শ্রেণির সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অন্যদিকে বেসরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
যেসব বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে চাইবে, তাদের অবশ্যই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) নির্ধারিত পাঠ্যক্রম অনুসরণ করতে হবে।
এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনলাইন সিস্টেম ‘আইপিইএমআইএস’-এ সক্রিয় থাকতে হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী বৃত্তি পরীক্ষা চারটি বিষয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
বিষয়গুলো হলো—বাংলা, ইংরেজি, প্রাথমিক গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান (সমন্বিত)।
প্রতিটি বিষয়ের জন্য ১০০ নম্বর করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থাৎ মোট নম্বর হবে ৪০০।
প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে।
বৃত্তি অর্জনের জন্য প্রতিটি বিষয়ে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে।
নতুন নীতিমালায় দুই ধরনের বৃত্তি চালু রাখা হয়েছে।
এসব হলো—ট্যালেন্টপুল বৃত্তি এবং সাধারণ বৃত্তি।
উভয় ক্ষেত্রেই ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী মোট বৃত্তির ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রী পাবে।
এছাড়া মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ট্যালেন্টপুল বৃত্তি উপজেলা বা থানা ভিত্তিক মেধাক্রম অনুযায়ী প্রদান করা হবে।
অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডকে ইউনিট ধরা হয়েছে।
প্রতিটি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডে দুইজন ছাত্র, দুইজন ছাত্রী এবং একটি মেধা কোটাসহ মোট পাঁচজন শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই কমিটিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সচিব কমিটির সভাপতি থাকবেন।
এছাড়া জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরীক্ষা পরিচালনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ২০০৮ সালে জারি করা প্রাথমিক শিক্ষা বৃত্তি নীতিমালাসহ পূর্ববর্তী সব নীতিমালা বাতিল বলে গণ্য হবে।