বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে করা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম, যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত, আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে তিনি এই মামলায় জামিন লাভ করেন।
এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বগুড়া শহরের শাজাহানপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তারের আগে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আনোয়ারুল হক এই আদেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন যে হিরো আলম তাকে নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং শারীরিক নির্যাতন চালান।
এছাড়া তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করতেও বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাদিয়া রহমান মিথিলা গত বছরের ২১ এপ্রিল বগুড়ার আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এই মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি দায়েরের পর বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ পিবিআইকে।
তদন্ত শেষে পিবিআই প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এরপর আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পরোয়ানা জারির পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন।
এই মামলাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
কারণ হিরো আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত একটি নাম এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করে আলোচনায় রয়েছেন।
আইনজীবীদের মতে, মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে মামলার অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।
