
জ্বালানি সরবরাহে বাড়তি চাপের মুখে শক্তি সাশ্রয়ের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে থাইল্যান্ড সরকার। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে জ্বালানি ব্যবহার কমাতে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো কর্মকর্তাদের লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করতে বলা।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নাভিরাকুল সরকারি কর্মকর্তাদের জ্বালানি ব্যবহার সীমিত রাখতে এবং অফিস কার্যক্রমে নির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার সরকারের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি অফিসগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। কর্মকর্তাদের লিফট ব্যবহার কমিয়ে সিঁড়ি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব হয়।
সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ সরকারি কর্মচারীকে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে হাসপাতাল, নিরাপত্তা বা জরুরি জনসেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি দপ্তরগুলোতে অপ্রয়োজনীয় আলো এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া অফিসে ব্যবহৃত এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো যায়।
সরকারি কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক ভারী পোশাকের পরিবর্তে হালকা পোশাক পরার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার কমিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
এদিকে থাইল্যান্ডের জ্বালানি মন্ত্রী আত্তাপোল রের্কপিবুন জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশটির কাছে প্রায় ৯৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে।
সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকার অতিরিক্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি না দেখা দেয়।
থাইল্যান্ডের এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৮ শতাংশই পূরণ হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যমে।
এই গ্যাসের একটি বড় অংশ আসে দেশীয় উৎপাদন থেকে। পাশাপাশি প্রায় ১৩ শতাংশ গ্যাস আসে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা এবং বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশই জ্বালানি সাশ্রয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
থাইল্যান্ড সরকারও একইভাবে জ্বালানির চাহিদা কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।