
দেশে পুষ্টিহীনতা মোকাবেলা এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ বায়োফর্টিফায়েড ফসলের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে জিংকসমৃদ্ধ ধান চাষের প্রসার ঘটানোর মাধ্যমে মানুষের খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে রংপুর নগরীর কাচারী বাজার এলাকায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মিলনায়তনে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য জিংক ধানবিষয়ক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। নিউট্রিশাস অ্যাগ্রিফিউচার বাংলাদেশ লিমিটেড এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় নীতিনির্ধারক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন অংশগ্রহণ করেন। এতে রংপুর বিভাগের আটটি উপজেলার কমিউনিটি হাসপাতালে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট মোট ৩০ জন অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জিংকসমৃদ্ধ ধানের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে জিংকসমৃদ্ধ ধানসহ অন্যান্য পুষ্টিকর ফসলের উৎপাদন বাড়ানো এবং এসব ফসলের প্রসারে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন হার্ভেস্টপ্লাস সলুশনসের প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ শাহিনুল কবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনও অনেক মানুষ অদৃশ্য পুষ্টিহীনতার সমস্যায় ভুগছেন।
তার মতে, বিশেষ করে শিশু ও নারীদের মধ্যে জিংকের ঘাটতি বেশি দেখা যায়। মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় জিংকসমৃদ্ধ ধান অন্তর্ভুক্ত করা গেলে এই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বায়োফর্টিফায়েড ফসলের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে কর্মরতদেরও এই বিষয়ে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি।
কারণ স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি জনগণের সঙ্গে কাজ করেন এবং তাদের মাধ্যমে জনগণকে পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহিন সুলতানা। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অনেক মানুষ এখনও প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত। জিংকসমৃদ্ধ ধান মানুষের খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে তা পুষ্টিহীনতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তার মতে, স্বাস্থ্যখাতের কর্মীরা এ বিষয়ে সচেতন হয়ে জনগণকে সচেতন করতে পারলে পুষ্টি ঘাটতি দূর করা আরও সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, জিংকসমৃদ্ধ ধানের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণ দেন রংপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. অনির্বাণ মল্লিক।
তিনি মানবদেহে জিংকের গুরুত্ব এবং এর ঘাটতির প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তার মতে, মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, শরীরে জিংকের ঘাটতি হলে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
তাই খাদ্যের মাধ্যমে পর্যাপ্ত জিংক গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে আরও বেশি কৃষক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে যুক্ত করে জিংকসমৃদ্ধ ধানের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিংকসমৃদ্ধ ধানের মতো বায়োফর্টিফায়েড ফসল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ ধরনের পুষ্টিকর ফসলের উৎপাদন ও প্রসার বাড়ানো প্রয়োজন।