
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
বুধবার (১১ মার্চ) বিচারপতি শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ সংক্রান্ত আদেশ দেন।
খায়রুল হকের পক্ষে আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন জানান, হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে তার মুক্তি পেতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
এর আগে গত রবিবারও হাইকোর্ট সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে আরও কয়েকটি মামলায় জামিন দেন। সেসব মামলার মধ্যে ছিল জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা চারটি মামলা।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসরুল হক চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান খান, মোতাহার হোসেন সাজু এবং আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত একটি রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন একটি মামলা করেন।
একই ধরনের অভিযোগে ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভুঁইয়া আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
এছাড়া একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি।
এসব মামলার পাশাপাশি প্লট জালিয়াতির মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকও একটি মামলা দায়ের করে।
মোট পাঁচটি মামলায় নিম্ন আদালতে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। পরে তিনি হাইকোর্টে জামিনের জন্য আবেদন করেন।
হাইকোর্ট এসব মামলার বিষয়ে শুনানি নিয়ে পাঁচ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন।
গত বুধবার দুদকের মামলাটি বাদে বাকি চারটি মামলার শুনানি শেষ হয়। পরে সর্বশেষ দুদকের মামলাতেও তাকে জামিন দেওয়া হয়।
এ বি এম খায়রুল হক দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়।
তিনি ২০১১ সালের ১৭ মে অবসরে যান।
অবসরের পর তিনি তিনবার আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশের ফলে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রেক্ষিতে কারামুক্তির পথ এখন উন্মুক্ত হয়েছে বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।