
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বর্তমানে ছয়টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম চলছে। দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার অ্যান্ড মেরিন সদস্য কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ।
বুধবার আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজগুলো থেকে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি খালাস করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে এলপিজি, এলএনজি এবং বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের জ্বালানি আমদানির অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। তাই এই বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা জাহাজগুলো থেকে জ্বালানি খালাসের কাজ চলমান রয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের পথে রয়েছে আরও চারটি জ্বালানিবাহী জাহাজ। এসব জাহাজে এলপিজি, এলএনজি এবং অন্যান্য জ্বালানি তেল বহন করা হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ জানান, দেশের পথে থাকা চারটি জাহাজের মধ্যে একটি জাহাজ বুধবারই বন্দরের জলসীমায় প্রবেশ করার কথা রয়েছে। এছাড়া আরও দুটি জাহাজ ১২ মার্চ এবং একটি জাহাজ ১৪ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব জাহাজ বন্দরে পৌঁছালে দ্রুত জ্বালানি খালাসের ব্যবস্থা করা হবে। জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যাতে খালাস কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, জ্বালানি পরিবহনকারী জাহাজগুলোকে দ্রুত খালাস করার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হবে। এ কারণে এসব জাহাজের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বহির্নোঙরে অবস্থানরত মাদার ভেসেলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রবন্দর। প্রতিদিন এই বন্দরের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও জ্বালানি আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এই বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বর্তমানে বহির্নোঙরে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম চলমান থাকায় দেশের জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর আগমন ও খালাস কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস সম্পন্ন করা যায়।
এছাড়া বন্দরের নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর আগমন ও খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও স্থিতিশীল থাকবে।