
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় একটি ভুট্টাখেতের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার হিজলবাড়িয়া-সাহারবাটি সড়কের আট কবর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাল রঙের স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো সন্দেহজনক দুটি বস্তু জনবহুল একটি সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। বস্তু দুটি দেখতে অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তারা দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর সতর্কতার সঙ্গে বস্তু দুটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশে মানুষের ভিড় এড়াতে পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
স্থানীয়দের মতে, জনবহুল সড়কের পাশে এ ধরনের বোমাসদৃশ বস্তু পড়ে থাকতে দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে এসব বস্তু সেখানে রাখা হতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা বা ডাকাতি কিংবা অন্য কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুর্বৃত্তরা এসব বস্তু ওই এলাকায় রেখে যেতে পারে। নির্জন সড়কের পাশে এমন বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় আশপাশের গ্রামগুলোতেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করেছে এবং আশপাশের এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গাংনী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অঙ্কুশ জানিয়েছেন, উদ্ধার করা বস্তু দুটি লাল স্কচটেপ দিয়ে শক্তভাবে মোড়ানো ছিল। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেগুলো উদ্ধার করার পরপরই একটি পানিভর্তি বালতিতে রাখা হয়, যাতে প্রাথমিকভাবে এগুলো নিষ্ক্রিয় করা যায়।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা বস্তুগুলো আসলেই শক্তিশালী কোনো বোমা কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে বস্তুগুলোর প্রকৃতি কী।
এদিকে পুরো এলাকা পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
ওসি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বা নাশকতাকারী জড়িত রয়েছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়ায়।
এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই সড়কের পাশে বা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখতে পেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন।