
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় কাজ করতে এসে নিখোঁজ হওয়া এক রাজমিস্ত্রির মরদেহ ১৮ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার মথরাপুর ইউনিয়নের চকবেনী গ্রামের মরাপুতি শ্মশানঘাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। একটি আমগাছের নিচে বসা অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা।
নিহত ব্যক্তির নাম নয়ন কুমার মহন্ত (২৪)। তিনি নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার ইনশিরা গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত প্রদীপ চন্দ্র মহন্তের ছেলে। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চকবেনী গ্রামের আদিবাসী শ্মশানঘাট এলাকায় অজিত নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি একটি আমগাছের সঙ্গে হেলান দিয়ে একজনকে বসে থাকতে দেখেন। বিষয়টি প্রথমে অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি কাছে গিয়ে তাকে ডাকাডাকি করেন।
তবে ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর তিনি আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দাদের খবর দেন। পরে এলাকাবাসী ঘটনাটি পুলিশকে জানালে বদলগাছী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
সন্ধ্যার দিকে বদলগাছী থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পুলিশ সেখানে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং পরে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮ দিন আগে নয়ন কুমার মহন্ত কাজের উদ্দেশ্যে বদলগাছী উপজেলায় আসেন। তিনি উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান মীর মহিউদ্দিন আলমগীরের পারিবারিক কবরস্থান মেরামতের কাজে যুক্ত ছিলেন।
কাজ করতে এসে হঠাৎ করেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। সহকর্মীরা তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি তার পরিবারকে জানানো হয়।
পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘ সময়েও তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয়দের মাধ্যমে নয়নের পরিবার জানতে পারে যে চকবেনী গ্রামের শ্মশানঘাট এলাকায় একটি মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা মরদেহটি নয়ন কুমার মহন্তের বলে শনাক্ত করেন।
ঘটনার বিষয়ে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখানে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য মরদেহটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় এলাকাতেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর শ্মশানঘাটে মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে।