
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের কেন্দ্রস্থলে একটি বহুতল আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার ফলে ভবনটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং ভবনের এক বা একাধিক তলা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মধ্য বৈরুতের একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় চালানো এই হামলার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাটি এমন সময় চালানো হয় যখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছিল। সে সময় ভবনের অধিকাংশ বাসিন্দা ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিমান হামলার পরপরই ভবনের একটি অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ায় চারপাশ ঢেকে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলের আশপাশে মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে।
ধারণা করা হচ্ছে, হামলাটি ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো একটি ‘টার্গেটেড কিলিং’ বা পরিকল্পিত হামলা হতে পারে। তবে এই হামলার মূল লক্ষ্য কে ছিলেন বা এতে কতজন হতাহত হয়েছেন—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
হামলার শিকার এলাকাটি বৈরুতের অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ একটি অংশ। এখানে আবাসিক ভবনগুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে হামলার পর আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পর ভবনের ভেতরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
উদ্ধারকারী দল আগুন নেভানোর জন্য তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ভবনের জ্বলন্ত অ্যাপার্টমেন্টগুলো থেকে এখনও ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছে। হামলার পর আশপাশের সড়কগুলো ভাঙা কাঁচ ও ধ্বংসাবশেষে ভরে গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
ঘটনার পর শত শত আতঙ্কিত মানুষ রাস্তায় জড়ো হন। অনেকে ভবনের বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ কেউ আশপাশের এলাকা থেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সাধারণত এ ধরনের হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে কিছু সময় নেয়। তাই এই হামলার প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু বা এর পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈরুতের এই অংশটি এতদিন সাধারণ মানুষের কাছে তুলনামূলক নিরাপদ এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সেখানে হামলা হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা দক্ষিণ বৈরুতের দাহিহ এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
অনেক বাস্তুচ্যুত পরিবার গত কয়েক দিন ধরে এই ভবনের আশপাশের খোলা জায়গায় অবস্থান করছিলেন। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আসা এসব মানুষ এখন আবার নতুন করে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। হামলার পর তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননের বিভিন্ন স্থানে যে ধরনের বিমান হামলা চালানো হয়েছে, সেখানে অনেক সময় পুরো ভবন ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখা গেছে। তবে এবারের হামলাটি কিছুটা ভিন্ন ধরনের বলে মনে করা হচ্ছে। এখানে পুরো ভবন ধ্বংস না করে নির্দিষ্ট কিছু তলা লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে।
তবে বিস্ফোরণ ও আগুনের কারণে ভবনটির কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।